ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কলকাতায় ‘জয়ের মিছিল ও পুষ্পবৃষ্টি’

অনলাইন ডেস্ক
১ ঘন্টা আগে
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কলকাতায় ‘জয়ের মিছিল ও পুষ্পবৃষ্টি’
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার কলকাতার রাজপথেও দেখা গেল প্রতিবাদ-পরবর্তী উদযাপনের আবহ। গত শনিবার দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার খবরে উল্লাসে মেতে ওঠেন।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সেই আবহেরই প্রতিফলন দেখা গেল কলকাতায়।

এদিন নাগরিক মঞ্চের উদ্যোগে ভারতীয় জাদুঘর থেকে একটি মহামিছিল বের হয়, যা শেষ হয় রবীন্দ্রসদন সংলগ্ন রাণুচায়া মঞ্চে। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়; বরং নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত একটি সর্বদল-নির্বিশেষ মিছিল।

কর্মসূচির শিরোনাম ছিল- “ফুল ফুটুক বা না ফুটুক, আজ বসন্ত”। মিছিল জুড়ে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয় গণসংগীত “আমরা করবো জয়” এবং ইংরেজি গান “We Shall Overcome”।

মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন- তরুণ প্রজন্ম ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। মাঝের সারিতে ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব, শিল্পী ও সংস্কৃতি জগতের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের সাধারণ মানুষও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আইনের তরুণ শিক্ষার্থী পৃথা চ্যাটার্জি বলেন, বর্ষার মধ্যেই আমরা বসন্ত পালন করছি। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা আমাদের কাছে নৈতিকতার জয়। যন্তর মন্তরের আন্দোলন প্রমাণ করেছে, ভারতের যুবসমাজ চাইলে শাসককেও নড়িয়ে দিতে পারে। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম ছাত্র আন্দোলনের চাপে একজন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। তাই এই জয় আমরা কলকাতায় মিছিল-উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করছি।

অভিনেতা দেবদূত ঘোষ বলেন, “আমরা অকাল বসন্ত পালন করছি। গত কয়েকদিন ধরে সাধারণ মানুষ যেভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে স্পষ্ট এই আন্দোলনের প্রতি মানুষের সমর্থন রয়েছে। এই সাফল্য সরকারকে বুঝিয়ে দিয়েছে, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তাই এই উদযাপন আমাদের কাছে বসন্ত উৎসবের মতোই।”

মিছিল শেষে রাণুচায়া মঞ্চে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা আন্দোলনের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন। 

হাতে ছোট ছোট প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো, কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির সমালোচনা এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে স্লোগান তোলেন। জয়ের আবহকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে মিছিলের অংশগ্রহণকারীদের উপর পুষ্পবৃষ্টিও করা হয়।

নাগরিক মঞ্চের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- অভিনেতা চন্দন সেন, অভিনেতা ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী রুমকি চট্টোপাধ্যায়, অভিনেতা দেবদূত ঘোষ, সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ অম্বিকেশ মহাপাত্র, সিপিআই(এম)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিমসহ সমাজের বিভিন্ন স্তর ও পেশার মানুষ।


কমেন্ট বক্স